

Buy বাঙালির ইতিহাস চর্চার পথের কাঁটা Online in Bangladesh
লেখক: ফয়েজ আলম
- Author: ফয়েজ আলম
- Publisher: ঘাসফুল
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2024
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
বাঙালির ইতিহাস ঘাটতে গেলেই কিছু বই-পুস্তকে উঠে আসে প্রাচীন বাঙালি হিন্দু জাতি। আসলেই কি তাই? যে জাতির ভাষার সর্বপ্রাচীন নিদর্শন 'চর্যাপদ' বৌদ্ধদের লেখা সাধন সঙ্গীত? আবার সেই নিদর্শন নেপাল থেকে পাওয়া গিয়েছিল! জিতেন্দ্রলাল বড়ুয়া মতে চর্যাপদের অন্যতম পদকর্তা 'কাহ্নপা' আমাদের নেত্রকোণা জেলার আটপাড়া উপজেলার কৃষ্ঠপুর(কৃষ্ণপুর) গ্রামের সন্তান ছিলেন। এই বাঙালি বৌদ্ধরা বাংলা ছেড়ে নেপালে আশ্রয় নিয়েছিলেন কেন? তুর্কি আক্রমণের সময় কেন বৌদ্ধরা মুসলমানদের পক্ষ নিয়েছিল(নগেন্দ্রনাথ বসু, বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস)? আবার কিছু মুসলমানদের কেনই বা হিন্দুরা 'নাইড়া'/'নেড়ের জাত' বইলা গালি দিত? বঙ্কিমচন্দ্রের 'বাংলার ইতিহাস নাই ...' করা আক্ষেপ ও কি বাংলার/বাঙালির সঠিক ইতিহাস লেখার ইচ্ছে নিয়ে করা আক্ষেপ? এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উৎস-সহ উত্তর পাওয়া যায় কবি ও লেখক ফয়েজ আলম স্যারের "বাঙালির ইতিহাস চর্চার পথের কাটা" বইয়ে। ১৮৭২ সালের আগে কলকাতা-কেন্দ্রিক উঁচুশ্রেণীর হিন্দু সমাজে বাঙলা ছিল 'হিন্দুদেশ', কিন্তু বেভারলির আদমশুমারি সেই চিন্তা-ধারা উল্টিয়ে দেয়। ১৮৭২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাঙলা প্রেসিডেন্সিতে আদিবাসী ও উপজাতি বাদে, হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৪ লাখ, ও মুসলিম জনসংখ্যা ১ কোটি ৭৬ লাখ। হিন্দুদেশে এই এতো বিশাল মুসলিম জনসংখ্যা কই থেকে এলো? এই প্রশ্নের উত্তরে বেভারলি উঁচুশ্রেণীর হিন্দু সমাজের মতে মতেই সুর দিলেন - "এদের অধিকাংশই নিচু জাতের হিন্দু, যারা ধর্মান্তরে মুসলমান হয়েছেন।" লেখকের ভাষ্যমতে এই কথা বলার কারণঃ- "তারা বুঝতে পারছিলেন নিচু জাতের হিন্দু থাইকা মুসলমান হওয়ার বিষয়টারে আমজনতার মধ্যে ছড়ায়া দিতে পারলে সাধারণ মুসলমান জনগোষ্ঠীর মানসিক মেরুদন্ড ভাইঙ্গা ফেলা যাবে। তাইলে তারা বিশ্বাস করবে যে, তারা নিচু জাতের হিন্দু থাইকা আসা মানুষ, বড় জাতের হিন্দুরা হিন্দুই রয়া গেছে, কাজেই হিন্দুরা তাদের থাইকা বড়।" অবশ্য রিচার্ড ইটন তার "The Rise of Islam and the Bengal Frontier" বইটিতে তিনি বেভারলির "নিম্নবর্ণ থেকে ইসলামে ধর্মান্তর" তত্ত্বকে চ্যালেঞ্জ করে দেখিয়েছেন যে, বাংলার মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে ভৌগোলিক পরিবর্তন (গঙ্গার গতিপথ পরিবর্তন) এবং কৃষিনির্ভর আবাদি জমির প্রসারের বড় ভূমিকা ছিল। বেভারলি আরও বলেছিলেন আমাদের ময়মনসিংহে মুসলিম বেশি কারণ ময়মনসিংহে মুসলিম শাসকদের প্রশাসনিক ও সেনাকেন্দ্র ইত্যাদি বেশি আছে বলে। যদি তাই হতো তবে মুর্শিদাবাদ, রাজমহল, পূর্নিয়া, পাটনা, অগ্রা, দিল্লি প্রভৃতি জায়গাতেও মুসলমান বেশি থাকত, কিন্তু ছিল তার উল্টো। এমন অনেক গুঁজামিলের ইতিহাসকে লেখক বাঙালির ইতিহাস চর্চার পথের কাটা হিসেবে ধরিয়ে দিয়েছেন এই বইটিতে। বাঙালির সঠিক ইতিহাস জানতে হলে পক্ষপাতদুষ্টতা বর্জন করা অতীব জরুরি এবং এই বইটি সে পথের কাঁটা চিহ্নিত করতে উপযোগী। গবেষণাধর্মী এমন বই এখন বিরল প্রায়।
সচেতন পাঠকের সেরা চয়েস হতে পারে এটা৷ বিশেষত বাংলার ইতিহাসে কোন ভুলটা আসলে আমাদেরকে সত্য ইতিহাস জানা থেকে পিছিয়ে দিয়েছে, এমনকি সঠিক ইতিহাসটা যে এখন কতটা আড়ালে চলে গেছে– এইসব দলিলসহ পেশ করেছেন লেখক৷ আমরা প্রায়ই প্রশ্ন করে থাকি– বাংলায় এত মুসলমান এলো কোত্থেকে? এই প্রশ্নের গবেষণামূলক উত্তর দিয়েছেন লেখক৷ এতটা চমৎকার পদ্ধতিতে আঁতুড় ঘরে চলে যাওয়া ইতিহাস বের করেছেন যার প্রতিটা লাইন লিখে রাখার মতো৷ কিছু বই থাকে যার পুরোটা অংশই মৌলিক, অর্থাৎ মূল কথার বাহিরে আউল ফাউল পেঁচাল নাই৷ এই বইটাও ঠিক তেমনি৷ ইতিহাস বিষয়ে পাঠক মাত্রই এটা পড়া উচিত, বিশেষত বাঙালির ইতিহাস নিয়ে যাদের আগ্রহ। (মাস্ট রিড ব্রাদার)











_Ebong_72_Jin-Shoytane-Kazi_Mac-18b1e-215102.jpg)











