

Buy হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ : শেষ সিপাহির রক্ত Online in Bangladesh
লেখক: নাজমুস সাকিব
- Author: নাজমুস সাকিব , জুরজি যায়দান
- Publisher: নবপ্রকাশ
- Isbn: 9789849347194
- Number Of Pages: 224
- Language: বাংলা
- Edition: 3th Edition, 2024
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ : শেষ সিপাহির রক্ত" বইয়ের সংক্ষিপ্ত কথা: পৃথিবীর ইতিহাসের স্মরণযােগ্য শাসকদের কথা বলতে গেলে অবধারিতভাবে হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ আসসাকাফির নাম অনায়েসে সামনে চলে আসে। একসাথে ভালাে এবং মন্দ-দুই ময়দানেই তার মতাে প্রশ্নসিদ্ধ। ব্যক্তিত্ব দ্বিতীয় কাউকে হয়তাে খুঁজে পাওয়া যাবে না। তিনি ছিলেন উমাইয়া রাজবংশের বিখ্যাত শাসক। শুধু শাসকই নন, বলা যায় অন্যতম রক্ষাকর্তা। তার হাতেই উমাইয়াদের শাসন স্থিতি লাভ করে। হেজাজ ও ইরাকের ‘বিদ্রোহীদের তিনি পরাজিত করেন কঠোরহস্তে। পুরষ্কার হিসেবে খলিফা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান তাকে হেজাজ, ইয়েমেন ও ইরাকের গভর্নর নিযুক্ত করেন। উমাইয়াদের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে খুব কঠোর ছিলেন হাজ্জাজ। দীর্ঘ শাসক-জীবনে প্রায় এক লক্ষের বেশি মানুষ তার হাতে নিহত হয়। এদের মধ্যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের প্রিয় সাহাবিদের কয়েকজনও ছিলেন। অতি কঠোরতা ও মহান সাহাবিদের প্রাণ হরণ হাজ্জাজকে কলংকিত করে রেখেছে ইতিহাসে। এতে তার ভালাে কাজগুলাে ঢাকা পড়ে গেছে। কিন্তু তার ফিরিস্তিও অনেক লম্বা। উমাইয়া খেলাফতের সূচনাকালের গল্প বলার পাশাপাশি লেবাননী লেখক জুরজি যায়দান এখানে হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের চরিত্রের কিছু ঝলক দেখিয়েছেন পাঠককে। হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফকে কেন্দ্র করে এ উপন্যাস নয়। উপন্যাসে পাঠক তার উপস্থিতি টের পাবেন সামান্য মাত্র। কিন্তু পুরাে উপন্যাস নির্মাণ হয়েছে তাকে কেন্দ্র করেই। এ উপন্যাসটি মূলত লেখকের ঐতিহাসিক সিরিজ উপন্যাসগুলাের একটি। উমাইয়া খেলাফতের উত্থান এবং আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইরের সাথে উমাইয়াদের লড়াই এই বইয়ের মূল পটভূমি। গল্পের স্বার্থে লেখক আরও কিছু ঐতিহাসিক ও কল্পিত চরিত্রকে এখানে স্থান দিয়েছেন। সেই চরিত্ররাই উপন্যাসের মূল অনুঘটক।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

বুক রিভিউ::: বই: হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ(শেষ সিপাহিরর রক্ত)। লেখক: জুরজি যায়দান। অনুবাদক: নাজমুস সাকিব। প্রকাশক: নবপ্রকাশ। প্রচ্ছদ: কারুকাজ। সুপ্রিয় পাঠকবৃন্দ. যাদের কারণে ইতিহাস আজ কলঙ্কিত হয়ে আছে, তার মধ্যে "হাজ্জাজ বিন ইউসুফ" অন্যতম হিসেবে রয়েছে। তিনি উমাইয়া বংশের খেলাফত প্রতিষ্ঠিত করার জন্যে নিকৃষ্টতম কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন। তার ক্ষমতার লোভ থাকায় এসব কুকর্মে নিজেকে সবসময় শামিল রেখেছিলেন। তিনি হযরত রাসূল (দঃ) এর তিনজন সাহাবিকে হত্যা করেছিলেন, এটাই ইতিহাসে তাকে কলঙ্কময় করে রেখেছে। এই বইটা লেখক উপন্যাস এর মাধ্যমে সাজিয়াছেন। প্রেম -ভালোবাসার মধ্যে দিয়ে তানি জঘন্যতম অপরাধ করেছেন সেই সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। পাঠকবৃন্দ এটা পড়লে আপনারা উমাইয়া বংশের বিখ্যাত শাসক 'হাজ্জাজ বিন ইউসুফ' সম্পর্কে জানতে পারবেন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। সকলের জন্যে শুভকামনা রইল।
good one
নব প্রকাশের বই কেনার সময় সব সময় একটা মিক্স ফিলিং কাজ করে কারণ আজ পর্যন্ত আমি পরিপূর্ণ স্যাটিসফেকশন পাইনি কখনো। হাজ্জাজ বিন ইউসুফ শেষ সিপাহীর রক্ত বইটা কিনলাম এবং পড়লাম। এটা যদি শুধুমাত্র একটা প্রেমের উপন্যাস হতো সমস্যা ছিল না কিন্তু প্রেমিক চরিত্রটা যখন একজন তাবেঈ হয় তখনই সমস্যার শুরু। মূল চরিত্র হাসান বইয়েই কয়েকজন সাহাবীকে দেখেছে তাদের সঙ্গে জিহাদ করেছে এবং একজন ঈমানদার মুসলিম সুতরাং তাকে একজন তাবেঈ বলে মেনে নিতে হবে। সে ভালোও বাসতে পারে কিন্তু যখন নায়িকা সুমাইয়ার বিয়ে হয়ে যায় হাজ্জাজের সাথে যদিও সেটা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে প্রতারণার বিয়ে তবুও তো বিয়ে, তাকে নিয়ে যখন ভেগে যেতে চায় তার প্রতি প্রেমটা পরকীয়া হয়ে যায়। এর চাইতে ও খারাপ হলো এই প্রেমের জন্য জীবন দিয়ে সে শহীদ হওয়ার স্বপ্ন দেখে , এটা মেনে নেয়া একটু কঠিন হয়ে গেলো। আর যে কারণে বইটা পসন্দ করেছি তা হলো কিছু ঐতিহাসিক চরিত্র ও ঘটনার বর্ণনা এবং হিজরী ৭৩ সালের সেই সময়ের সমাজের একটা চমৎকার ছবি ফুটে উঠেছে এই বইয়ে যারা আব্দুল্লাহ বিন জুবায়েরের খিলাফত সম্পর্কে কিছু জানে এবং মনে অনেক প্রশ্ন জমা হয়েছে তার কিছু উত্তর এই বইয়ে পাওয়া যায় আবার হোসাইন রাঃ হত্যার পর কুফাবাসীর অবস্থান এবং হত্যাকারীদের কি হয়েছিল তা জানা গিয়েছে। ইতিহাসের ক্ষেত্রেও কিছুটা সমস্যা আছে জুরজি জায়দান একজন প্রমাণিত দুষ্ট লোক যে অনেকগুলি সত্যের সাথে দুই একটা মিত্থা লিখে দেয় এবং আমাদের মতো অল্প জানা পাঠকের সমস্যা হয়ে যায় সত্য মিত্থা যাচাই করতে যেমন আব্দুল্লাহ বিন জুবায়েরের রাঃ শেষ দিনগুলি ও তার কর্মকান্ডগুলি যেমন সত্য বলে পেলাম ঠিক একই সময়ে হোসাইন রাঃ মেয়ে সকিনা যেরকম গান বাজনা কবিতা নিয়ে লাভিশ লাইফ কাটাচ্ছিল, মুড়ি র মতো টাকা ছড়াচ্ছিল কবিদের পিছনে সেটা কি সত্যি। প্রকাশক বলেছে এটা উপন্যাস, আগেই বলেছি উপন্যাসে আমার আপত্তি নাই কিন্তু তাবেঈ চরিত্র ও হোসাইন রাঃ মেয়ে সকিনা কে নিয়ে এই ধরণের অসত্য কথা উপন্যাস হলেও মেনে নিতে কষ্ট হয়। নবপ্রকাশের বই সিলেকশন আরো ভালো হবে এই আশা করছি অনুবাদক ভালো কাজ করেছে বিশেষতঃ কবিতাগুলি নিয়ে তাকে ধন্যবাদ।

খোলাফায়ে রাশেদিনের শাসনের পর যে সংক্ষুব্ধ সময় ইতিহাসকে রক্তাক্ত করে তুলেছিল, এ উপন্যাস সেই সংক্ষুব্ধ সময়কে পাঠের আলোয় নিয়ে এসেছে। একদিকে খেলাফতে রাশেদার পদছাপকে আঁকড়ে ধরে কাবার দুয়ারে সিনাটান করে দাঁড়িয়েছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইর, অন্যদিকে উমাইয়া সাম্রাজ্যের ক্ষমতালোভী শাসকগণ খেলাফতের কেন্দ্রবিন্দু ধুলিস্যাৎ করতে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগে ছিল বদ্ধপরিকর। রক্তের বন্যা বয়ে যেতে লাগল পবিত্র শহরের গলি গলিতে। সেই সময়ের নিষ্পাপ এক প্রেমকাহিনির হাত ধরে পাঠক প্রবেশ করবেন খেলাফত রক্ষার সাহসী সংগ্রামে। আশা করি ইতিহাস ও উপন্যাসপাঠক—সকলেই উদ্দীপ্ত হবেন এই অনবদ্য গ্রন্থপাঠে। ইতিহাসের অন্যতম সময়ের সবচে বড় ও শক্তিশালী রাষ্ট্রের ক্ষমতার পালাবদল, প্রিয়নবির প্রিয় এক সহচরের অসীম বীরত্ব ও শাহাদাত, একজন স্বৈরশাসক এবং সে যুগের একজোড়া তরুণ ও তরুণীর ভালোবাসায় তার অনুপ্রবেশ—সব মিলিয়ে নাতিদীর্ঘ কলেবরের এই বই ‘হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ : শেষ সিপাহির রক্ত’ সত্যিই উপন্যাসের চেয়ে বেশিকিছু।























