

Buy দ্য ক্যাট হু সেভড বুকস Online in Bangladesh
লেখক: সোসুকে নাটসুকাওয়া
- Author: সোসুকে নাটসুকাওয়া
- Publisher: নয়া উদ্যোগ
- Isbn: 9789843557476
- Number Of Pages: 160
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2024
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
নাতসুকি বইঘর শহরের প্রান্তে পুরোনো বইয়ের ছোট্ট একটা দোকান। ভেতরের উঁচু উঁচু তাকগুলো ছাঁদ পর্যন্ত বিস্তৃত, প্রতিটি তাকেই চমৎকার সব বই ঠেসে ভরা। রিনতারো নাতসুকি তার দাদুর তৈরি করা এই জায়গায় পছন্দের সব বই পড়ে অনেক আনন্দময় সময় কাটিয়েছে। একজন নিভৃতচারী বালকের জন্য একেবারে উপযুক্ত যায়গা। তাই এই জায়গাটা সে খুব ভালোবাসে। দাদুর মৃত্যুর পর রিনতারো একদম বিপর্যস্ত এবং একা হয়ে যায়। বইয়ের দোকানটা হয়তো বন্ধ করে দিতে হবে তাকে। তখন টাইগার নামে একটি কথা বলা বাদামী রঙের বিড়াল উপস্থিত হয় এবং রিনতারোর কাছে সাহায্য চায়। টাইগার জানায় তার সাথে অভিযানে যোগ দেওয়ার জন্য তার একজন বইপ্রেমীর প্রয়োজন। তারপর অদ্ভুত এই জুটি একসঙ্গে বেরিয়ে পড়ে অভিযানে। কী অপেক্ষা করছে তাদের জন্য? 'দ্য ক্যাট হু সেভড বুকস' সাহস খুঁজে বের করা, অন্যের যত্ন নেওয়া - এবং বইয়ের অসাধারণ ক্ষমতা নিয়ে লেখা একটি হৃদয়স্পর্শী গল্প।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
আফরোজা চৈতী আপুর অসাধারণ একটি অনুবাদকৃত বই "দ্য ক্যাট হু সেভড বুকস"। নান্দনিক প্রচ্ছদ,ঝগঝগে ডিজাইন,প্রেক্ষাপটের সাথে মিল রেখে প্রচ্ছদের পেইন্টিং এবং ইলিমেন্টস। ভিতরের কনটেক্সট ছিলো সাবলিল,সহজ সরল ভাষায় পুরো প্রেক্ষাপটটিকে উপস্থাপন করা হয়েছে। সবমিলে বইটি আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে🥰

" তুমি যদি কোনো বই সহজে পড়তে পারো, তার মানে এই যে এই বইয়ে যা আছে তা তুমি জানো, এই কারণেই তো এটা সহজ।যদি তোমার কাছে এটা কঠিন মনে হয়, তাহলে এটাই প্রমাণ করে যে এটা নতুন কিছু।" প্রথমেই এই উদ্ধৃতিটুকু কেন লিখলাম জানেন? একজন আপু হয়তো একদিন এই বইয়ের অনুবাদ নিয়ে পোস্ট দিয়েছিলেন যে, " রকমারির কী সমস্যা? অনুবাদ বইগুলোর ' কিছু অংশ পড়ে দেখুন' এমন অপশন কেন রাখেনা? তাহলে তো বোঝা যায় যে অনুবাদ কেমন এবং বইটি কেনা উচিত কিনা। নাকি ভয় পায় যে কেউ হয়তো এই অংশটুকু পড়ার পর বইটা কিনতেই চাইবেনা?" এরকম একটা পোস্ট আমাকে হতাশ করেছিলো যখন আমি বইটা পড়া শুরু করি। কেননা বইটা যেহেতু আমার কাছেও ছিলো। কিন্তু পড়িনি। তখন মনে হচ্ছিল হয়তো আমার পক্ষে পড়া সম্ভব নয় যেহেতু আপুটি এমনভাবে বলেছিলেন। পরবর্তীতে যখন আমি বইটা পড়া শুরু করি তখন থেকে আমার কিছুই বোধগম্য হচ্ছিল না। আমি যেহেতু অনুবাদ বই তেমন পড়িনা তাই আমার মনে হচ্ছিল হয়তো এজন্যই আমার তেমন ভালো লাগছে না। কিন্তু কিছু পৃষ্ঠা পড়ার পর আমি মূল গল্পে যখন চলে আসি তখন আমার আর সমস্যা হয়নি। আমি বুঝেছিলাম যে আমার আসলে অনুবাদ নিয়ে সমস্যা না। সমস্যা সবসময় হয় প্লট নিয়ে। তবে অনুবাদ নিয়েও সমস্যা হয় যখন পুরোটাই আক্ষরিক অনুবাদ থাকে তখন মনে হয় রসকষহীন কোনো রচনা পড়ে যাচ্ছি। আমার জানা নেই ঐ আপুর কেন এতটা খারাপ লেগেছিলো যে তিনি এমন মন্তব্য করেছিলেন। কেননা আমার ভাবনা আর উনারটা অবশ্যই আলাদা। তবে মন্তব্য টা আমার কাছে কেন জানি অতিরঞ্জিতই মনে হয়েছে। যেহেতু বইয়ের প্লটটা তেমন সাংসারিক জীবন ও রোম্যান্স নিয়ে তৈরি নয় তাই এটা এতটা পরিবর্তন করে মূল স্টোরি থেকে বাহির হয়ে লিখাটা উচিত নয়। কেননা পুরোটাই বই রিলেটেড এবং বইয়ের বিষয় কখনও নিজে থেকে বানানো যায় না। যা লিখা এবং যা সত্যি তাই লিখতে হয়। যদিও এটা ছিলো ফিকশন জনরার। কিন্তু এতে রয়েছে সমাজের জন্য বার্তা। যা কাল্পনিক নয়। উপরের যে উদ্ধৃতি রয়েছে সেটা এই বইয়েরই। একদম বইয়ের শেষের দিকে ১৫৪ পৃষ্ঠার শুরুতে। এটা পড়ার পর আমার মনে হলো যে গতানুগতিক লেখার বাইরে যখন আমরা আলাদা/অনন্য কিছু পড়ি তখনই আমাদের কাছে কঠিন লাগতে শুরু করে। আর আমার বা অন্যান্যদেরও হয়তো সেই একই কারণে বইটার শুরুতেই পড়তে কষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু কেউ যখন মূল গল্পে চলে যাবে এবং একটার পর একটা রহস্য উন্মোচন করবে নিঃসন্দেহে তিনি বলতে বাধ্য হবেন এটা একটা অসাধারণ অ্যাডভেঞ্চার ছিলো। সবার আগে অনুবাদ বইটির প্রচ্ছদ নিয়ে কথা বলতে চাই। যেহেতু অনেকের কাছেই বইটা কঠিন মনে হয়েছে সেজন্যই। যারা বইটি পড়বেন তারা সবার আগে বইয়ের প্রচ্ছদটা অনুধাবন করার চেষ্টা করবেন। যতটা সিম্পল মনে হচ্ছে সজল চৌধুরীর করা এই প্রচ্ছদটি কিন্তু এতটাও সিম্পল না। ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলে পুরো বইয়ের থিম,মেসেজ ও ঘটনা সংক্ষেপ এখানেই খুঁজে পাবেন। বুঝতে পারবেন আসলে কী ঘটতে চলেছে। অথবা পড়ার সাথেও সাথেও এর উত্তর খুঁজে পাবেন বই শেষ হওয়ার আগেই। ইন শা আল্লাহ্। যেহেতু বইটা মৌলিক নয় তাই প্রথমে মূল লেখা ও পরে অনুবাদ নিয়ে লিখেছি। "দ্য ক্যাট হু সেভড বুকস"—একটি হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া গল্প যা আমাদের বইয়ের প্রতি ভালোবাসা এবং জীবনের গভীর অর্থ খুঁজে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে শেখায়। জাপানি লেখক সোসুকে নাতসুকাওয়া এমন একটি গল্প রচনা করেছেন যা শুধু বইপ্রেমী মানুষের জন্য নয়, বরং তাদের জন্যও যারা জীবনের বিভিন্ন সংকটের মুখোমুখি হয়ে নিজের পথ খুঁজে ফিরছেন। এটি শুধু কল্পকাহিনি নয়, বরং মানুষের অন্তর্দৃষ্টি ও নিজস্বতা নিয়ে এক গভীর আলোচনারও প্রতিফলন। গল্পের মূল সুর: গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে রিনতারো নাতসুকি, একজন কিশোর যে সদ্য তার প্রিয় দাদু (দাদা) কে হারিয়েছে। তার দাদা একটি পুরনো বইয়ের দোকান চালাতেন, যা রিনতারো উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। কিন্তু দাদার মৃত্যুতে রিন্তারো তার জীবনের অর্থ এবং বইয়ের প্রতি তার নিজের আবেগ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়। যে দোকান একসময় তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল, সেটি ধীরে ধীরে তার কাছে বোঝা হয়ে উঠছে। এই বিষণ্ণতার মুহূর্তে গল্পে আবির্ভাব ঘটে এক রহস্যময় বিড়াল ( ট্যাবি বিড়াল), টাইগার- এর। টাইগার শুধু যে কথা বলে তাই নয়, সে রিনতারোকে বলে যে তাদেরকে কিছু বইকে বাঁচাতে হবে—যেসব বই অবহেলা, বাণিজ্যিকতা এবং ভুল দৃষ্টিভঙ্গির শিকার। টাইগারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে রিনতারো এক ধরনের অলৌকিক যাত্রায় বের হয়, যেখানে সে বিভিন্ন জগতে প্রবেশ করে এবং এমন মানুষদের মুখোমুখি হয় যারা বইয়ের প্রকৃত মূল্য সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করে। বইয়ের মধ্যে ছিলো তিনটি অ্যাডভেঞ্চার ল্যাবিরিন্থ( গোলকধাঁধা) এবং একটি নিজস্ব ল্যাবিরিন্থ যেটা বই বাঁচানোর সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়। ~প্রথম ল্যাবিরিন্থ ~ বাণিজ্যিকীকরণ এবং বইয়ের আসল মূল্য: রিনতারো এবং টাইগার প্রথমে প্রবেশ করে এক জগতে যেখানে বইকে শুধুমাত্র বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে দেখা হয়। এখানে মানুষ বইয়ের অর্থকে পণ্যের মতো মাপে, তাদের আবেগ, অনুভূতি, বা জ্ঞানার্জনের জন্য নয়, বরং শুধুমাত্র লাভের জন্য। এই জগতে বইয়ের প্রকৃত অর্থ হারিয়ে গিয়েছে, মানুষ তাদের হৃদয়ের জন্য বই পড়ে না, বরং সমাজের চোখে নিজেকে জাহির করার জন্য পড়ে। মেসেজ /বার্তা : এই মুহূর্তে গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, বইয়ের আসল মূল্য কখনো টাকার অঙ্কে পরিমাপ করা যায় না। বই আমাদের আত্মা, মনন এবং চিন্তাকে সমৃদ্ধ করে। এটি সেই মাধ্যম যা আমাদের জ্ঞানের ভান্ডার খুলে দেয়, আমাদের মানবিক অনুভূতির গভীরে প্রবেশ করায়। অথচ, আধুনিক যুগে বই অনেক সময় শুধুমাত্র বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ~দ্বিতীয় ল্যাবিরিন্থ~ অতিমাত্রায় দ্রুত পড়ার ঝোঁক: পরবর্তীতে রিনতারো আরেকটি জগতে প্রবেশ করে যেখানে মানুষ বই পড়ার সময় তার প্রকৃত অর্থ ধরার আগেই দ্রুতগতিতে শেষ করে ফেলছে। এখানে দ্রুত পড়া এবং অনেক বেশি বই পড়ার প্রতিযোগিতা দেখা যায়। কিন্তু এই প্রতিযোগিতা শুধু সংখ্যার ওপর নির্ভর করে, বইয়ের গভীরতা বোঝার বা তার অন্তর্নিহিত বার্তাগুলি উপলব্ধি করার জন্য নয়। মেসেজ/বার্তা : এই অংশে লেখক আমাদের মনে করিয়ে দেন যে, বই পড়া কেবলমাত্র দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করার কাজ নয়। বইয়ের প্রকৃত আনন্দ হলো প্রতিটি পৃষ্ঠার সাথে যুক্ত হওয়া, চরিত্রগুলির সাথে একাত্ম হওয়া, এবং গল্পের ভেতরের বার্তা অনুধাবন করা। এই যে সময় নিয়ে বই পড়া, সেটাই পাঠের আসল অর্থ, যা আমাদের ব্যক্তিত্ব এবং চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটায়। ~তৃতীয় ল্যাবিরিন্থ~ বইয়ের ভুল ব্যবহারের সমালোচনা: তৃতীয় ল্যাবিরিন্থে রিনতারো সেইসব মানুষের মুখোমুখি হয় যারা বইকে শুধুমাত্র ক্ষমতা বা প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। তারা বইকে জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে নিজেদের উন্নতির পথে ব্যবহার না করে, বরং অন্যদের ওপর প্রভাব ফেলার জন্য বা নিজেদের গৌরবমণ্ডিত করার জন্য ব্যবহার করে। মেসেজ /বার্তা : এখানে লেখক অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে বোঝাতে চেয়েছেন যে, বইয়ের সঠিক ব্যবহার হল নিজেকে পরিশীলিত করা, নিজের জ্ঞানের প্রসার ঘটানো এবং অন্যদের উপকারে লাগানো। বইয়ের প্রকৃত শক্তি হলো জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়া, যা মানবজাতির সমৃদ্ধি ঘটায়। রিনতারোর ব্যক্তিগত যাত্রা: এই পুরো অভিযানের মধ্য দিয়ে রিনতারো কেবল বইয়ের প্রতি ভালোবাসা নতুনভাবে আবিষ্কার করে না, বরং সে নিজেকেও নতুন করে খুঁজে পায়। দাদার মৃত্যু তাকে জীবনের প্রতি উদাসীন করে তুলেছিল, কিন্তু এই যাত্রার মাধ্যমে সে নিজের আত্মবিশ্বাস ও সাহস ফিরে পায়। তাকে যে শিক্ষা দেয় : তার এই অভিযানের প্রতিটি ধাপই তাকে ব্যক্তিগতভাবে শক্তিশালী করে তোলে। সে উপলব্ধি করতে শুরু করে যে, বই কেবল শব্দের সমষ্টি নয়, বরং এগুলো জীবনের প্রতি গভীর অর্থ, অনুভূতি এবং প্রজ্ঞা বহন করে। বইয়ের মাধ্যমে জীবনকে আবার নতুন করে দেখতে শিখে রিনতারো। গল্পের গভীর দিক এবং শিক্ষণীয় বিষয়: "দ্য ক্যাট হু সেভড্ বুকস্" শুধু একটি কল্পকাহিনির গল্প নয়, এটি বইপ্রেম, ব্যক্তিগত বিকাশ এবং জীবনের গভীর অর্থের প্রতি একটি চিন্তাশীল পর্যবেক্ষণ। এই বইয়ের থিমে লিটারেরি ফিকশন এবং পরাবাস্তবতা ( magical realism) অন্তর্ভুক্ত থাকলেও প্রধান বিষয় যেহেতু বই তাই এটা ছিলো সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা সবার মাঝে সমাজের চিত্র এভাবে ফুটিয়ে তোলার। এখানে লেখক অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা এবং বইয়ের প্রতি মানুষের মনোভাবের পরিবর্তনকে সমালোচনা করেছেন। বইকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন না করার যে সমস্যা আধুনিক সমাজে দেখা যায়, তা গল্পের বিভিন্ন অংশে ফুটে উঠেছে। কিন্তু এর পাশাপাশি গল্পটি পাঠকদের বইয়ের প্রকৃত আনন্দ, মূল্য এবং বইয়ের সাথে আত্মিক সম্পর্ক পুনঃআবিষ্কার করতে শেখায়। আফরোজা চৈতীর অনুবাদ: এখন অনুবাদ নিয়ে কথা বলি। আফরোজা চৈতী-র অনুবাদে বইটির কল্পনার জগৎ সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি মূল জাপানি গল্পের আবেদন এবং সৌন্দর্য যথাযথভাবে বাংলা ভাষায় তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে রিনতারো এবং টাইগারের সংলাপগুলো সরল হলেও ভাবার্থপূর্ণ, যা পাঠকদের হৃদয়ে গভীরভাবে গেঁথে যায়। অনুবাদে মূল গল্পের অনুভূতি অক্ষুণ্ণ রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, এবং আফরোজা চৈতী তা ভালোভাবেই সামলে নিয়েছেন। কেননা আমি পূর্বেও বলেছি সব প্লটকে নিজস্ব ভাবনায় সাজালে চলেনা। তাহলে আসল মেসেজ ব্যাহত হয়। তার অনুবাদের শৈলী প্রাঞ্জল এবং স্নিগ্ধ, যা পাঠককে সহজেই গল্পের ভেতর প্রবেশ করতে সাহায্য করে। অনেক সময় অনুবাদে মূল গল্পের মর্মার্থ হারিয়ে যায়, কিন্তু এখানে সেটি ঘটেনি। বইয়ের প্রতিটি অধ্যায়ের অনুভূতি পাঠককে ছুঁয়ে যাবে, যা তার অনুবাদের সার্থকতার প্রমাণ। বিশেষ করে রিনতারোর যাত্রা এবং তার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বগুলো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আফরোজা চৈতী-র অনুবাদ এ গল্পের সাথে বাংলাভাষী পাঠকদের গভীরভাবে যুক্ত করতে সাহায্য করবে। মূল গল্পের ভাব, সৌন্দর্য এবং পাঠকের সাথে বইয়ের গভীর সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রেখে বাংলা ভাষায় এই বই পড়া এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে। তবে আমি মনে করি মর্মার্থ বুঝতে পারার কারণ একটাই সেটা হলো বইটা নন-ফিকশনের মতো। যদি জন-জীবন নিয়ে ফোকাসটা বেশি থাকতো তাহলে হয়তো এই অনুবাদকে বেশিরভাগই আক্ষরিক অনুবাদের আওতায় ফেলতে হতো। যদি অনুবাদক কখনও ঐ ধরনের বই রচনা করেন তাহলে উনাকে আরও আবেগ-অনুভূতি ও নিজস্ব ভাষায় সেটা অনুবাদ করার জন্য অনুরোধ থাকবে। এই প্লটের জন্য এমন অনুবাদ পারফেক্ট। তবে তিনি চাইলে কিছু জায়গায় আরেকটু আবেগ মিশিয়ে সংলাপগুলো লিখতে পারতেন। তবে তেমন সমস্যা হবেনা পাঠকদের। কেননা রিনতারোর চরিত্রটাই বাহ্যিকভাবে এমন রসকষহীন। তার জন্য এরকম যথার্থ হয়েছে। যদিও ভেতর থেকে সে খুবই নরম মনের মানুষ। বানান : শুরুতে বানান ভুলটা তেমন চোখে না পড়লেও সব গুলো মেলালে অনেক হবে। আমি ভেবেছিলাম ৩-৪টা বানান তো মাঝেমধ্যে ভুল হয়ই। কিন্তু পরবর্তীতে অনেক ভুল পাওয়া গিয়েছে যদি একত্রে হিসেব করি। *বইয়ের বাইন্ডিং ও কাগজের মান দারুণ। এত আরাম পেয়েছি বইটা পড়ে, আলহামদুলিল্লাহ্। যেকোনো ভাবে ও যেকোনো জায়গায় পড়তে সহজ লেগেছে। কাগজের কোয়ালিটিও খুবই উন্নত মানের। একদম সফট্ ও আরামদায়ক। রিভিউয়ের মূল সারসংক্ষেপ: "দ্য ক্যাট হু সেভড বুকস" আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, বই শুধুমাত্র পড়ার জন্য নয়, এটি আমাদের চিন্তার প্রসার ঘটানোর জন্য, আমাদের ব্যক্তিত্বের গভীরে প্রবেশ করার জন্য, এবং জীবনের মানে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার জন্য। গল্পের মাধ্যমে রিনতারোর ব্যক্তিগত যাত্রা এবং সাহিত্যের প্রতি তার আবেগ পাঠকদের মনোযোগ কেড়ে নেবে। এই বইটি বইপ্রেমীদের জন্য অবশ্যই পড়ার মতো, যারা শুধুমাত্র বইয়ের গল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চান না, বরং সেই গল্পের ভেতরকার জীবনের সত্যিকারের অর্থ খুঁজে পেতে চান। রেটিং : মূল গল্পের জন্য : ৪.৫/৫ অনুবাদ : ৪/৫ বই : দ্য ক্যাট হু সেভড বুকস লেখক : সোসকে নাতসুকাওয়া অনুবাদ : আফরোজা চৈতী জনরা : ফ্যান্টাসি,অ্যাডভেঞ্চার, ফিকশন প্রকাশনী : নয়া উদ্যোগ মূল্য : ৩৫০ টাকা সবার জন্য দোয়া রইলো। জাযাকুমুল্লোহু খয়রন। আস্সালামু আ'লাইকুম ওয়ারহমাতুল্লহি ওয়াবারকাতুহ্ ।


আফরোজা চৈতি আপুর অনুবাদ সত্যি অসাধারণ ছিল । সবাইকে বইটি সংগ্রহ করার বিশেষ ভাবে অনুরোধ করা হলো । আশা করি ভালো কিছু টেস্ট পাবেন ।

বইটি আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। অনুবাদক সহজ সাবলীল ভাষায় অনুবাদ করেছেন। আপনারা চোখ বন্ধ করে অর্ডার করতে পারেন।
আফরোজা চৈতীর অনুবাদে এই বইটি চমৎকার একটি সুখপাঠ্য বই। লেখকের গল্পের প্লট খুব সুন্দর। আর অনুবাদ ছিল সাবলীল। বইয়ের ছাপা থেকে বাইন্ডিং পর্যন্ত সব সুন্দর। বইটি সকল বইপ্রেমীর সুযোগ হলে পড়ে দেখা উচিত।
প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)
how many pages
Dear customer, a total of 160 pages of the book, thanks.
how many pages
Dear customer, a total of 160 pages of the book, thanks.





















